হোম / হাওড়া, পাঁচলা / পাঁচলা পঞ্চায়েত সমিতিতে ঐতিহাসিক পালাবদল! অনাস্থা ভোটে পরাজিত আবুবকর মল্লিক।

পাঁচলা পঞ্চায়েত সমিতিতে ঐতিহাসিক পালাবদল! অনাস্থা ভোটে পরাজিত আবুবকর মল্লিক।

পাঁচলা: দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক সমীকরণে এবার বড়সড় পরিবর্তনের ছবি পাঁচলায়। পাঁচলা পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি তথা বিধায়ক গুলশান মল্লিকের ছেলে আবুবকর মল্লিকের বিরুদ্ধে অনাস্থা ভোটে জয় পেয়েছেন বিরোধী সদস্যরা। সাম্প্রতিক সময়ে তাঁর বিরুদ্ধে দলেরই একাংশের সদস্যরা অনাস্থা প্রস্তাব আনেন। প্রকাশিত প্রতিবেদনে জানা যায়, ৩৩ সদস্যের মধ্যে ১৮ জন প্রথমে অনাস্থা প্রস্তাবে স্বাক্ষর করেছিলেন। অভিযোগ ছিল, সভাপতি কয়েকজন ঘনিষ্ঠ সদস্যকে নিয়ে অন্যদের সঙ্গে যথেষ্ট আলোচনা না করে নিজের মতো করে সমিতি পরিচালনা করছিলেন।অনাস্থা পর্বের পর শান্তিরঞ্জন চক্রবর্তী নতুন সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন বলে স্থানীয় রাজনৈতিক মহলে আলোচনা শুরু হয়েছে। সবচেয়ে তাৎপর্যপূর্ণ বিষয়, রাজনৈতিক মহলের একাংশের দাবি—একসময় যাঁরা বিধায়ক গুলশান মল্লিকের ঘনিষ্ঠ সহযোগী হিসেবে পরিচিত ছিলেন, তাঁদেরই কেউ কেউ এখন তাঁর পরিবারের রাজনৈতিক নেতৃত্বের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছেন।অর্থাৎ প্রশ্ন উঠছে—যাঁদের নিয়ে একসময় রাজনৈতিক শক্তির ভিত তৈরি হয়েছিল, তাঁরাই কি এবার সেই ভিতের বিরুদ্ধে দাঁড়িয়ে গেলেন?আবুবকর মল্লিককে ঘিরে মূল অভিযোগগুলির মধ্যে রয়েছে, পঞ্চায়েত সমিতির গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে সব সদস্যের সঙ্গে আলোচনা না করা এবং নিজের পছন্দের কয়েকজনকে নিয়ে প্রশাসনিক কাজ পরিচালনা করা। এই অভিযোগের কথাই অনাস্থা প্রস্তাবের সময় প্রকাশিত হয়েছিল।

গুলশান মল্লিককে ঘিরেও একাধিক অভিযোগের রাজনৈতিক প্রভাবঅন্যদিকে, পাঁচলার বিধায়ক গুলশান মল্লিককে ঘিরে জমি সংক্রান্ত বিরোধ, দুর্নীতি, রাজনৈতিক হিংসা, ঘরছাড়া এবং মিথ্যা মামলায় জড়ানোর মতো নানা অভিযোগ স্থানীয় রাজনীতিতে দীর্ঘদিন ধরে আলোচিত। তবে এসব অভিযোগের ক্ষেত্রে অভিযোগকারীদের বক্তব্য, নথি এবং সংশ্লিষ্ট তদন্তের ফলাফল আলাদাভাবে যাচাই করা প্রয়োজন। প্রকাশিত সংবাদেও পাঁচলায় জমি নিয়ে দালালচক্র ও স্থানীয় মানুষের অভিযোগের কথা উঠে এসেছে। মল্লিক অবশ্য তাঁর ছেলে আবুবকরের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তাঁর দাবি, বিজেপি পরিকল্পনা করে দলের কিছু সদস্যকে প্রভাবিত করে অনাস্থা এনেছে।প্রশ্ন এখন একটাই—পাঁচলা পঞ্চায়েত সমিতির এই পালাবদল কি শুধুই একটি অনাস্থা ভোটের ফল, নাকি দীর্ঘদিনের জমে থাকা ক্ষোভ ও রাজনৈতিক মতবিরোধের বহিঃপ্রকাশ?একসময় যাঁরা ছিলেন ক্ষমতার খুব কাছের মানুষ, তাঁদেরই একাংশ আজ যদি বিরোধিতার সামনে দাঁড়ান, তাহলে পাঁচলার রাজনীতিতে এই পরিবর্তনের প্রভাব কতদূর যাবে—সেদিকেই এখন নজর রাজনৈতিক মহলের।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

সাম্প্রতিক পোস্ট

ধন্যবাদ!

আপনার অনুরোধ সফলভাবে গ্রহণ করা হয়েছে। আগামী ২৪–৪৮ ঘন্টার মধ্যে আমাদের প্রতিনিধি আপনার সাথে যোগাযোগ করবে। আমাদের সাথে যুক্ত থাকার জন্য ধন্যবাদ।
অনুসরণ ও সাবস্ক্রাইব করুন